জাতীয়জামালপুরবাংলাদেশ সংবাদশিক্ষাসকল খবরসারা দেশ

প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সুযোগ্য নেতৃত্বে জেলার ৪টি উপজেলার শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষাকেন্দ্র চান্দের হাওড়া আলীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়টি এগিয়ে যাচ্ছে

8

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
জামালপুরের সদর উপজেলাসহ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ির কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সগর্বে সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে সদর উপজেলার ১৩নং মেষ্টা ইউনিয়নের চান্দের হাওড়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আলীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়টি। বলা বাহুল্য এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ মাষ্টার, শিক্ষক-শিক্ষিকামন্ডলী ও ম্যানেজিং কমিটির সুযোগ্য নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি এতদাঞ্চলে শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী আলীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি মিসেস জাহেদা খানমের স্বামী বিদ্যানূরাগী প্রয়াত আলহাজ¦ অধ্যাপক মফিজুর রহমান(এম.এ.এল.এল-বি) ১৯৯৭ইং সালের ১ জানুয়ারি তার পিতা মরহুম আলীম উদ্দিনের স্মরণে প্রতিষ্ঠা করেন এ বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন, আলীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি মিসেস জাহেদা খানম। এরপর অনেক ঘাত প্রতিঘাতে প্রতিষ্ঠাকালীন ১১ সদস্যের পরিচালনা কমিটি অনেক ত্যাগ স্বীকার করে এ বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠায় যথাযথ অবদান রাখেন। এ কমিটিতে সভাপতি ছিলেন, প্রয়াত আলহাজ¦ অধ্যাপক মফিজুর রহমান, সদস্য ছিলেন, জামালপুর শহরের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ সিংহজানী বহুমুখি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউসুফ আলী, ব্যাংক ম্যানেজার মীর আহম্মদ আলী, সোনাকাতা গ্রামের অক্সফাম সমন্বয়কারী প্রয়াত তসলিম উদ্দিন, কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ মঞ্জুরুল হাসান দুলাল, মোঃ নাসির উদ্দিন সরকার, মোঃ নায়েব আলী মন্ডল, মোঃ হাবিল উদ্দিন টিকাদার, মোঃ আফসার উদ্দিন মেম্বার ও মোঃ আব্দুল হক টিকাদার। বিদ্যালয়টির বর্তমান কমিটিতে রয়েছেন, সভাপতি প্রতিষ্ঠাতার সহধর্মিনী ও জামালপুর শহরের ইকবালপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রক্তন সহকারি শিক্ষিকা মিসেস জাহেদা খানম, অভিভাবক প্রতিনিধি রয়েছেন, মোঃ রহমত আলী, কো-অপ্ট সদস্য মোঃ তাছির উদ্দিন,  শিক্ষক প্রতিনিধি রয়েছেন, আকলিমা খাতুন, মোঃ জাহিদুর রহমান, মোঃ রফিকুল ইসলাম, দাতা সদস্য হিসেবে রয়েছেন, মোঃ মতিউর রহমান, সদস্য মোঃ খোরশেদ আলম, মোঃ লিয়াকত আলী, মোঃ রবিউল ইসলাম ও মোছাঃ আছিয়া খাতুন। উপদেষ্টা মন্ডলীতে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন, মোঃ মঞ্জুরুল হাসান দুলাল, উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন, মোঃ আনিছুর রহমান, মোঃ নায়েব আলী মন্ডল, মোঃ মনোজ্জল হক, মোঃ রেজাউল ইসলাম, মোঃ ওয়াহাব আলী টিকাদার মেম্বার, মোঃ ফখরুল হাসান ও মোঃ নাসির উদ্দিন। বিদ্যালয়ের গর্বিত দাতাসদস্যগণ হলেন, মোঃ নাসির উদ্দিন সরকার (জমি), মোঃ জামাল উদ্দিন টিকাদার (জমি), মোঃ নওসের আলী (জমি), মোঃ মোসাহাব আলী (জমি), মোঃ  মোকাদ্দেস আলী (জমি), মোঃ হাবিল উদ্দিন (জমি), মোঃ কামরুল ইসলাম (জমি), মোঃ  দুলাল সরকার (জমি), মোঃ মতিউর রহমান টিকাদার (জমি), আলহাজ¦ মোঃ দিদারুল আলম (নগদ অর্থ), মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ (নগদ অর্থ ও জমি), গোলাম রব্বানী তানসেন (নগদ অর্থ ও জমি), মোঃ জাহিদুর রহমান বিপ্লব (নগদ অর্থ ও জমি), মোঃ জুবাইদুর রহমান বিদ্যুৎ, ডাঃ মাহ্বুবা জান্নাত রুমা(নগদ অর্থ ও জমি), মোঃ ফখরুল হাসান (জমি), মোঃ শহীদুল্লাহ  (জমি)। ১৯৯৭ইং সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ইং থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ইং পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন মোঃ গোলাম মোস্তফা, এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ইং থেকে ৩০ আগষ্ট ২০০০ইং পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন মোঃ গোলাম মোস্তফা, এদিকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০০০ইং থেকে ২৯ অক্টোবর ২০০১ইং পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব পালন করেন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ্, এরপর ৩০ অক্টোবর ২০০১ইং থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ইং পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ্, এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ইং থেকে অদ্যাবধি অত্যন্ত দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সাথে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ (বি.এ, বি-এড, এম.এ, এম-এড)। শুরুতে ১শ ৮০জন শিক্ষার্থী নিয়ে ৭৫ শতাংশ জমিতে একটি মাত্র টিনের কাঁচা ঘরে পাঠদান শুরু করা হয় এ বিদ্যালয়ে। পরে ১৯৯৭ইং সালে ৬ষ্ঠ থেকে ৭ম, ১৯৯৮ইং সালে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম,  ১৯৯৯ইং সালে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম, ২০০০ইং সালে পাঠদানের স্বীকৃতি অর্জন করে। ২০০৩ইং সালে একাডেমিক স্বীকৃতি অর্জন করে, ২০০৪ইং সালে নি¤œমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত এমপিওভূক্ত হয়, ২০০৯ইং সালে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি লাভ করে, ২০১২ইং সালে একাডেমিক স্বীকৃতি অর্জন করে, ২০১১ইং সালে বিদ্যালয়ের নিজস্ব নামে পরীক্ষার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। ইতিপূর্বে মেলান্দহ উপজেলার বাঘাডোবা এবং সদর উপজেলার হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে পরীক্ষা দিতে হতো শিক্ষার্থীদের। কালের বিবর্তনে আর সংশ্লিষ্ট সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বর্তমানে দেড় একর জমিতে শিক্ষার্থী ৯শ ২৬জন। শুধুমাত্র ২০১৯ সালের এস.এস.সি পরীক্ষাতেই পরীক্ষার্থী ছিল ২শ ২১জন। শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন ২১জন। এছাড়া বর্তমানে  বিদ্যালয়টির ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণিতে অতিরিক্ত ৫টি শ্রেণি শাখা রয়েছে। কম্পিউটার, কৃষি, ব্যবসায় শিক্ষা, বিজ্ঞানসহ সকল বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পাঠদান, জেএসসি ও এসএসসিতে শতভাগ পাশসহ সদর উপজেলায় ৪র্থ স্থান অর্জনের গৌরব। বিজয় ফুল প্রতিযোগিতা ২০১৮ইং সালে জাতীয় সঙ্গীতে ৩য় স্থান, দেশাত্ববোধক দলীয় সংগীতে ২য় স্থান, কবিতা আবৃতিতে ১ম স্থান, রচনা প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অর্জন।  এছাড়া বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে প্রতিমাসে শতভাগ উপস্থিতির জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা, প্রতিটি পরীক্ষায় ১ম স্থান থেকে ৫ম স্থান পর্যন্ত পুরস্কারের ব্যবস্থা, সহশিক্ষা কার্যক্রমে রয়েছে ১ম স্থান থেকে ৫ম স্থান পর্যন্ত পুরস্কারের ব্যবস্থা। এদিকে শিক্ষার্থীদের অহেতুক ছুটি রোধে রয়েছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবককে সাথে নিয়ে ছুটির আবেদন করার বিধি, অপরদিকে অনুপস্থিত শিক্ষার্থৗদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেয়া, রয়েছে মনিটরিং সেলের তত্বাবধান,   নিজস্ব সুপরিসর ক্যাম্পাস, ৬টি পৃথক টয়লেট, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে রয়েছে ময়লা ফেলার ঝুড়ি, বারান্দায় রয়েছে পঁচনশীল ও অপঁচনশীল পদার্থের জন্য ডাষ্টবিন। টয়লেটগুলো প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার করে থাকে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা প্রদান, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ১৪ প্রকার স্বাস্থ্য রক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়। তন্মদ্যে রয়েছে, টুথব্রাশ, টুথপেষ্ট, হ্যান্ডওয়াশ, হারপিক, টয়লেট ব্রাশ, স্যান্ডেল, টি-শার্ট, ক্যালেন্ডার, স্যানেটারি ন্যাপকিনসহ ইত্যাদি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ৪তলা বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণ কাজের শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান একাডেমিক ভবনের নির্মাণ ও মেরামতের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। তথাপি এ ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টির রয়ে গেছে কিছু সমস্যা। তন্মধ্যে, সীমানা দেয়ালের সংকট, বিদ্যালয় তোরণের সংকট, মাঠ প্রশস্তকরণের জন্য অর্থনৈতিক সংকট, শহীদ মিনার নির্মাণ,  মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম নির্মাণ, আইসিটি ল্যাব. সংকট। সর্বোপরি সবচেয়ে বড় সমস্যা বিদ্যালয়টিতে আসা যাওয়ার জন্য নেই পর্যাপ্ত রাস্তা, নেই ঝিনাই নদীর ওপরে একটি ব্রীজ। অথচ সকল সংকট আর প্রতিকূলতাকে জয় করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিটি জাতীয় দিবস অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন, বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষাসফর, মিলাদ উদযাপন করে আসছে। আর অপরদিকে এসব করতে গিয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ আর উপকরণের প্রয়োজন সেগুলো নিজস্বভাবে করে নিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রাণ সঞ্চালক সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক  মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ (বি.এ, বি-এড, এম.এ, এম-এড)। তার পরিকল্পনা আর পরিচালনায় ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি আরও এগিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button