বাংলাদেশ সংবাদশিক্ষাসকল খবরসারা দেশ

সহকারী শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন করে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা সম্ভব নয়

%25E0%25A6%25A6%25E0%25A7%2588%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%2595%2B%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25A4%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25AF%25E0%25A7%2587%25E0%25A6%25B0%2B%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25A8%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25A7%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25A8%25E0%25A7%2587%2B%25E0%25A6%25AA%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%25A4%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25A6%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25A8

স.স.প্রতিদিন ডেস্ক ।।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহোদয় থেকে শুরু করে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পর্যন্ত যত কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন তাদের সবাইকে একটি উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত হতে হচ্ছে এবং সেটি হচ্ছে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। এই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের জন্যই জনগনের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে এ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের মুল কাজ অর্থাৎ পাঠদানের কাজটি যারা করেন তারা হচ্ছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক। এই সহকারী শিক্ষকদের উপরই নির্ভর করছে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সফলতা অথবা ব্যর্থতা। সহকারী শিক্ষকরা সফল হলে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সফল, তারা ব্যর্থ হলে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ব্যর্থ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী হলেও এই প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা বেতন পদমর্যাদায় এখনো চরমভাবে অবহেলিত।

গাছের গোড়ায় পানি না দিয়ে আগায় পানি দিলে যেমন কখনো ভালো গাছ পাওয়া যায় না তেমনি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা যাদের উপর নির্ভর করে তাদেরকে অবহেলিত রেখে বা তাদেরকে অবমূল্যায়ন করে কখনো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করা যাবে না।

এই ধ্রুব সত্য কথাটি যত তাড়াতাড়ি কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারবে তত তাড়াতাড়ি দেশ ও জাতির মঙ্গল হবে। শিক্ষকদের নায্য অধিকার বুঝিয়ে দেয়াতো কর্তৃপক্ষের নিজের দায়িত্ব তাহলে শিক্ষকদের নায্য অধিকার আদায়ের জন্য কেন বিদ্যালয় ছেড়ে রাজপথে প্রচণ্ড শীতের রাতে কুকুরের পাশে ঘুমাতে হবে?

শিক্ষকরা এমন কোন দাবী করেনি যা উদ্ভট ও অযৌক্তিক, তাহলে তাদের নায্য দাবী কর্তৃপক্ষ স্বীকার করলেও সেই নায্য দাবী পূরণে কেন গড়িমসি করা হয় অথবা দাবী পূরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাণ এই সহকারী শিক্ষকরা ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০৫ সালের পর্যন্ত যত পে-স্কেল গঠিত হয়েছিল তার সবগুলোতে পদ অনুসারে প্রধান শিক্ষকের ১ ধাপ নিচে বেতন-ভাতা পেতেন,সেখানে বর্তমানে উনারা প্রধান শিক্ষকের ৩ধাপ নিচে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ১ ধাপ পার্থক্য থেকে কেন ৩ ধাপ পার্থক্য সৃষ্টি করা হল?

কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতা দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাই সহকারী শিক্ষকরা পূর্বের দেয়া মর্যাদা ও পদ অনুসারে প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেড অর্থাৎ ১১তম গ্রেডে বেতন ভাতা নির্ধারণের জন্য দাবী জানিয়ে আন্দোলন করে আসছেন।কর্তৃপক্ষ সহকারী শিক্ষকদের দাবী যৌক্তিক বলে স্বীকার করছেন এবং তা নিরসনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। কিন্তু দাবী যৌক্তিক ও তা পূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্বেও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেয়ার স্পষ্ট ঘোষণা না দেয়ায়,দাবী পূরণে কালক্ষেপণ ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির আশংকায় বর্তমানে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা হতাশ ও ক্ষুদ্ধ।

এই হতাশা নিয়ে বর্তমানে ৩লক্ষ সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান করছেন যা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পথে অন্তরায়। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করে দেশকে উন্নতদেশের কাতারে নিয়ে যেতে হলে সহকারী শিক্ষকদের নায্য দাবী ১১তম গ্রেড দ্রুত প্রদান করে তাদের ক্ষোভ নিরসন করা উচিত। কর্তৃপক্ষের একথা মনে রাখা উচিত যে সহকারী শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন করে কখনো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব নয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button